ঢাকা , সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬ , ৩০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

​পহেলা বৈশাখ থেকে চরফ্যাশন-মনপুরায় টোলমুক্ত হাট-বাজার ও সড়ক।

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-০৪-১৩ ১২:৩৪:২১
​পহেলা বৈশাখ থেকে চরফ্যাশন-মনপুরায় টোলমুক্ত হাট-বাজার ও সড়ক। ​পহেলা বৈশাখ থেকে চরফ্যাশন-মনপুরায় টোলমুক্ত হাট-বাজার ও সড়ক।

ইয়াছিন, চরফ্যাশন, ভোলা
প্রতিনিধি।


জনদুর্ভোগ কমবে, গতি পাবে স্থানীয় অর্থনীতি —ভোলা-৪ এমপি -এর ঘোষণা।
১৩ এপ্রিল — বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে ভোলা জেলার ও -এর জনগণের জন্য বড় ধরনের স্বস্তির খবর এসেছে। আগামী ১৪ এপ্রিল থেকে এই দুই উপজেলার সকল হাট-বাজার, ঘাট ও সড়ক সম্পূর্ণ টোলমুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে।

এ সিদ্ধান্তের ঘোষণা দেন ভোলা-৪ আসনের সংসদ সদস্য । সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় জনগণের টোল সংক্রান্ত ভোগান্তি, অতিরিক্ত ব্যয় এবং চলাচলের প্রতিবন্ধকতা দূর করার লক্ষ্যে এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

ঘোষণার পরপরই চরফ্যাশন ও মনপুরা এলাকায় আনন্দের সাড়া পড়ে যায়। হাট-বাজারে ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে দিনমজুর, রিকশাচালক, ভ্যানচালক—সব শ্রেণি-পেশার মানুষের মাঝে স্বস্তির অনুভূতি লক্ষ্য করা গেছে।

স্থানীয় এক পাইকারি ব্যবসায়ী বলেন, “প্রতিদিন হাটে পণ্য আনতে গিয়ে বিভিন্ন স্থানে টোল দিতে হতো। এতে খরচ বেড়ে যেত, যার প্রভাব পণ্যের দামের ওপর পড়ত। এখন টোল না থাকলে ব্যবসা পরিচালনা সহজ হবে।”

রিকশাচালকরা জানান, প্রতিদিনের উপার্জনের একটি অংশ টোল হিসেবে দিতে হতো, যা তাদের জন্য বড় চাপ ছিল। নতুন সিদ্ধান্তে তারা কিছুটা আর্থিক স্বস্তি পাবেন বলে আশা করছেন।

অর্থনীতিবিদ ও স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, টোল প্রত্যাহারের ফলে পণ্য পরিবহনের খরচ কমবে, যা সরাসরি বাজারদরের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এতে করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কিছুটা কমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

এছাড়া হাট-বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতার উপস্থিতি বাড়বে, ব্যবসার পরিধি বিস্তৃত হবে এবং স্থানীয় অর্থনীতি আরও সক্রিয় হয়ে উঠবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

দীর্ঘদিন ধরে টোল আদায়ের কারণে বিভিন্ন স্থানে যানজট, বিলম্ব এবং অতিরিক্ত ভোগান্তির সৃষ্টি হতো। টোলমুক্ত হওয়ার ফলে এসব সমস্যার অবসান ঘটবে বলে আশা করছেন এলাকাবাসী। ফলে রাস্তাঘাটে চলাচল হবে আরও দ্রুত, নির্বিঘ্ন ও আরামদায়ক।

সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক সূত্র জানায়, ১৪ এপ্রিল থেকে সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। টোল আদায়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকল কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং বিষয়টি তদারকির জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

এ সিদ্ধান্তকে একটি সময়োপযোগী ও জনকল্যাণমূলক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইতোমধ্যেই ব্যাপক প্রশংসা দেখা গেছে। অনেকেই মনে করছেন, এটি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এলাকার সর্বস্তরের জনগণ এই উদ্যোগের জন্য সংসদ সদস্য -এর প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। তাদের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনবান্ধব উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে, যা উন্নয়নের ধারা আরও বেগবান করবে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : [email protected]

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ